মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

ভূমি বিষয়ক তথ্য

 

 

 জমা খারিজ:

জমা খারিজ অর্থ যৌথ জমা বিভক্ত করে আলাদা করে নতুন খতিয়ান সৃষ্টি কার| প্রজার কোন জোতের কোন হস্তান্তর বা বন্টনের কারনে মুল খতিয়ান থেকে কিছু জমি নিয়ে নতুন জোত বা খতিয়ান খোলাকে জমা খারিজ বলা হয়|

 

 পর্চা:

ভূমি জরিপ কালে প্রস্তুতকৃত খসরা খতিয়ান যে অনুলিপি তসদিক বা সত্যায়নের পূর্বে ভূমি মালিকের নিকট বিলি করা হয় তাকে মাঠ পর্চা বলে| রাজস্ব অফিসার কর্তৃক পর্চা সত্যায়িত বা তসদিক হওয়ার পর আপত্তি এবং আপিল শোনানির শেষে খতিয়ান চুরান্তভাবে প্রকাশিত হওয়ার পর ইহার অনুলিপিকে পর্চা বলা হয়|

 

 তফসিল:

তফসিল অর্থ জমির পরিচিতিমূলক বিস্তারিত বিবরণ| কোন জমির পরিচয় প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট মৌজার নাম খতিয়ান নং, দাগ নং,জমির চৌহদ্দি, জমির পরিমাণ ইত্যাদী তথ্য সমৃদ্ধ বিবরণ কে তফসিল বলে|

 

মৌজা:

ক্যাডস্টাল জরিপের সময় প্রতি থানা এলাকাকে অনেকগুলো এককে বিভক্ত করে প্রত্যেকটি একক এর ক্রমিক নং দিয়ে চিহ্নিত করে জরিপ করা হয়েছে | থানা এলাকার আরুপ প্রত্যেকটি একককে মৌজা বলে| এক বা একাধিক গ্রাম বা পাড়া নিয়ে একটি মৌজা ঘঠিত হয়|

 

 খাজনা:

ভূমি ব্যবহারের জন্য প্রজার নিকট থেকে সরকার বার্ষিক ভিত্তিতে যে ভূমি কর আদায় করে তাকে ভুমির খাজনা বলা হয়|

 

ওয়াকফ:

ইসলামি বিধান মোতাবেক মুসলিম ভূমি মালিক কর্তৃক ধর্মীয় ও সমাজ কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের ব্যয় ভার বহন করার উদ্দেশ্যে কোন সম্পত্তি দান করাকে ওয়াকফ বলে|

মোতয়াল্লী:

ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধান যিনি করেন তাকে মোতওয়াল্লী বলে| মোতওয়াল্লী ওয়াকফ প্রশাসকের অনুমতি ব্যতিত ওয়াকফ সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে না|

 

ওয়ারিশ:

ওয়ারিশ অর্থ ধর্মীয় বিধানের আওতায় উত্তরাধিকারী | কোন ব্যক্তি উইল না করে মৃত্যু বরন করলে আইনের বিধান অনুয়ায়ী তার স্ত্রী, সন্তান বা নিকট আত্মীয়দের মধ্যে যারা তার রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে মালিক হন এমন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে ওয়ারিশ বলা হয়|

 

ফারায়েজ:

ইসলামি বিধান মোতাবেক মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বন্টন করার নিয়ম ও প্রক্রিয়াকে ফারায়েজ বলে|

 

খাস জমি:

ভূমি মন্ত্রনালয়ের আওতাধিন যে জমি সরকারের পক্ষে কালেক্টর তত্ত্বাবধান করেন এমন জমিকে খাস জমি বলে|

 

কবুলিয়ত:

সরকার কর্তৃক কৃষককে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার প্রস্তাব প্রজা কর্তৃক গ্রহণ করে খাজনা প্রদানের যে অংঙ্গিকার পত্র দেওয়া হয় তাকে কবুলিয়ত বলে|

 

দাগ নাম্বার:

মৌজায় প্রত্যেক ভূমি মালিকের জমি আলাদাভাবে বা জমির শ্রেণী ভিত্তিক প্রত্যেকটি ভূমি খন্ডকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করার লক্ষ্যে সিমানা খুঁটি বা আইল দিয়ে স্বরজমিনে আলাদাভাবে প্রদর্শন করা হয়| মৌজা নক্সায় প্রত্যেকটি ভূমি খন্ডকে ক্রমিক নম্বর দিয়ে জমি চিহ্নিত বা সনাক্ত করার লক্ষ্যে প্রদত্ত নাম্বারকে দাগ নাম্বার বলে| একেক দাগ নাম্বারে বিভিন্ন পরিমাণ ভূমি থাকতে পারে | মূলত, দাগ নাম্বার অনুসারে একটি মৌজার অধীনে ভূমি মালিকের সীমানা খূটিঁ বা আইল দিয়ে সরেজমিন প্রর্দশন করা হয় |

ছুট দাগ:

ভূমি জরিপের প্রাথমিক পর্যায়ে নক্সা প্রস্তত বা সংশোধনের সময় নক্সার প্রত্যেকটি ভূখণ্ডের ক্রমিক নাম্বার দেওয়ার সময় যে ক্রমিক নাম্বার ভুলক্রমে বাদ পরে যায় অথবা প্রাথমিক পর্যায়ের প্রে দুটি ভূমি খন্ড একত্রিত হওয়ার কারনে যে ক্রমিক নাম্বার বাদ দিতে হয় তাহাকে ছুটদাগ বলা হয়|

 

চান্দিনা ভিটি:

হাট বাজারের স্থায়ী বা অস্থায়ী দোকান অংশের ওকৃষি প্রজা এলাকাকে চান্দিনা ভিটি বলা হয় |

 

অগ্রক্রয়াধিকার:

অগ্রক্রয়াধিকার অর্থ সম্পত্তি ক্রয় করার ক্ষেত্রে আইনানুগতভাবে আন্যান্য ক্রেতার তুলনায় অগ্রাধিকার প্রাপ্যতার বিধান| কোন কৃষি জমির মালিক বা অংশিদার কোন আগন্তকের নিকট তার অংশ বা জমি বিক্রির মাধ্যমে হস্তান্তর করলে আন্য অংশিদার কর্তৃক দলিলে বর্ণিত মূল্য সহ অতিরিক্ত ১০% অর্থ বা অবহিত হওয়ার ৪ মাসের মধ্যে আদালতে জমা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে জমি ক্রয় করার আইনানুগ অধিকারকে অগ্রক্রয়াধিকার বলে|

 

আমিন:

ভূমি জরিপের মাধ্যমে নক্সা ও খতিয়ান প্রস্তত ও ভূমি জরিপ কাজে নিজুক্ত কর্মচারীকে আমিন বলে |

 

সিকন্তি:

নদী ভাংঙ্গনে জমি পানিতে বিলিন হয়ে যাওয়াকে সিকন্তি বলে| সিকন্তি জমি ৩০ বছরের মধ্যে স্বস্থানে পয়ন্তি হলে সিকন্তি হওয়ার প্রাক্কালে যিনি ভূমি মালিক ছিলেন| তিনি বা তাহার উত্তরাধিকারগন উক্ত জমির মালিকানা শর্ত সাপেক্ষ্যে প্রাপ্য হবেন |

 

পয়ন্তি: নদী গর্ভ থেকে পলি মাটির চর পড়ে জমির সৃষ্টি হওয়াকে পয়ন্তি বলে |

 

নাল জমি: সমতল ২ বা ৩ ফসলি জমিকে নাল জমি বলা হয় |

 

দেবোত্তর সম্পত্তি:

হিন্দুদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদির আয়োজন, ব্যবস্থাপনা ও সু সম্পন্ন করার ব্যয় ভার নির্বাহের লক্ষ্যে উৎসর্গকৃত ভূমিকে দেবোত্তর সম্পত্তি বলা হয়|

 

 ডি, সি, আর:

ভূমি কর ব্যতিত আন্যান্য সরকারি পাওনা আদায় করার পর যে নির্ধারিত ফর্মে (ফর্ম নং ২২২) রশিদ দেওয়া হয় তাকে ডি, সি, আর বলে |

 

দলিল:

যে কোন লিখিত বিবরণী বা ভবিষ্যতে আদালতে স্বাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য তাকে দলিল বলা হয়| তবে রেজিস্ট্রেশন আইনের বিধান মোতাবেক জমি ক্রেতা এবং বিক্রেতা সম্পত্তি হস্তান্তর করার জন্য যে চুক্তিপত্র সম্পাদন ও রেজিস্ট্রি করেন তাকে সাধারন ভাবে দলিল বলে |

 

কিস্তোয়ার:

ভূমি জরিপ কালে চতুর্ভুজ ও মোরব্বা প্রস্তত করার পর সিকমি লাইনে চেইন চালিয়ে সঠিকভাবে খন্ড খন্ড ভুমির বাস্তব ভৌগলিক চিত্র অঙ্কনের মাধ্যমে নক্সা প্রস্তুতের পদ্ধতিকে কিস্তোয়ার বলে|

 

খানাপুরি:

জরিপের সময় মৌজা নক্সা প্রস্তুত করার পর খতিয়ান প্রস্তুতকালে খতিয়ান ফর্মের প্রত্যেকটি কলাম জরিপ কর্মচারী কর্তৃক পূরন করার প্রক্রিয়াকে খানাপুরি বলে|

 

 বায়নামা:

১৯০৮ সালের দেওয়ানি কার্যবিধির ২১ আদেশের ৯৪ নিয়ম অনুসারে কোনো স্থাবর সম্পত্তির নিলাম বিক্রয় চূড়ান্ত হলে আদালত নিলাম ক্রেতাকে নিলামকৃত সম্পত্তির বিবরণ সংবলিত যে সনদ দেন তা বায়নামা নামে পরিচিত| বায়নামায় নিলাম ক্রেতার নামসহ অন্যান্য তথ্যাবলি লিপিবদ্ধ থাকে| কোনো নিলাম বিক্রয় চূড়ান্ত হলে ক্রেতার অনুকূলে অবশ্যই বায়নামা দিতে হবে| যে তারিখে নিলাম বিক্রয় চূড়ান্ত হয় বায়নামায় সে তারিখ উল্লেখ করতে হয়|

 

দলিল:

যে কোন লিখিত বিবরণ আইনগত সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য তাকে দলিল বলা হয়| তবে রেজিস্ট্রেশন আইনের বিধান মোতাবেক জমি ক্রেতা এবং বিক্রেতা সম্পত্তি হস্তান্তর করার জন্য যে চুক্তিপত্র সম্পাদন ও রেজিস্ট্রি করেন সাধারন ভাবেতাকে দলিল বলে|

 

ভায়া দলিল:

সহজে উত্তর হচ্ছে, জমির মূল বা আদি দলিলকে ভায়া দলিল বলে| আর জমির মালিকানা নিরুপনের জন্য ভায়া দলিল একটি অপরিহার্য উপাদান |আপনি যখন কোন জমি ক্রয় করবেন তখন অবশ্যই জমির বিক্রেতা থেকে ভায়া দলিল চেয়ে নিবেন |সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে একটি নির্দিষ্ট ফরমে সার্চ করে উক্ত দলিলের সঠিকতা যাচাই করে নিবেন| আর উক্ত ভায়া দলিল থেকে সৃষ্ট পরবর্তী প্রতিটি দলিলের দাগ নাম্বার ও জমির হিস্যা ঠিক আছে কিনা জেনে নিবেন| যদি সন্দেহ হয় তাহলে রেজিস্ট্রি অফিসে সংরক্ষিত দলিলের সাথেও মিলিয়ে দেখতে পারেন|

ছবি



Share with :

Facebook Twitter